এক বছরে হাজার কোটি ডলার রয়্যালটি পরিশোধ স্পটিফাইয়ের

অনেক শিল্পী অভিযোগ করে থাকেন, স্ট্রিমিং যুগের মুনাফায় তারা যথাযথ হিস্যা পাচ্ছেন না।

অনেক শিল্পী অভিযোগ করে থাকেন, স্ট্রিমিং যুগের মুনাফায় তারা যথাযথ হিস্যা পাচ্ছেন না। নিজেদের আর্থিক প্রতিবেদনে সেই সমালোচনার জবাব দিল মিউজিক স্ট্রিমিং প্লাটফর্ম স্পটিফাই। তারা জানিয়েছে, গত বছর রয়্যালটি বাবদ ১ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি পরিশোধ করা হয়েছে। খবর এফটি।

প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, আয়ের বড় একটি অংশ রয়্যালটি হিসেবে পরিশোধ করেছে সুইডিশ স্ট্রিমিং পরিষেবাটি। ২০২৪ সালে মোট ১ হাজার ৫৭০ কোটি ইউরো আয় করেছে স্পটিফাই, এর মধ্যে ৬০ শতাংশেরও বেশি গিয়েছে রয়্যালটি হিসেবে। অন্যদিকে নিট মুনাফা হিসেবে কোম্পানির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে ১১০ কোটি ইউরো।

স্পটিফাই বলেছে, রয়্যালটি হিসেবে কোনো কোম্পানির ১ হাজার কোটি ডলার পরিশোধ ‘সংগীত শিল্পের ইতিহাসে সর্বোচ্চ’। এ প্রসঙ্গে তারা ২০০০-এর দশকের শুরুতে খুচরা সিডি বিক্রিতে শীর্ষে থাকা প্রতিষ্ঠান টাওয়ার রেকর্ডসের সঙ্গে নিজেদের তুলনা করছে। রয়্যালটির এ অংক সংগীতশিল্পের বাড়বাড়ন্ত অবস্থা তুলে ধরছে বলে জানান স্ট্রিমিং জায়ান্টটির সংগীত ব্যবসার বিপণন ও নীতিমালা বিভাগের প্রধান স্যাম ডুবফ। তিনি বলেন, ‘আমরা পরিসংখ্যান থেকে দেখছি, সংগীত ইতিহাসে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন অনেক বেশি শিল্পী সাফল্য পাচ্ছে।’

প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৪ সালে প্রায় দেড় হাজার সংগীতশিল্পী স্পটিফাই থেকে অন্তত ১০ লাখ ডলার রয়্যালটি পেয়েছেন। তাদের ৮০ শতাংশের কোনো গানই ওই বছর স্পটিফাইয়ের ‘টপ ৫০’ তালিকায় জায়গা করে নিতে পারেনি।

এক দশকেরও বেশি সময় আগে স্ট্রিমিংয়ের জগতে স্পটিফাইয়ের আবির্ভাব, যা সংগীত বিপণনে রীতিমতো বিপ্লব এনে দিয়েছে। তবে অনেকদিন ধরেই শিল্পীদের কাছ থেকে তাদের সমালোচনা শুনতে হয়েছে। কারণ স্ট্রিমিং প্লাটফর্মে একবার গান বাজলে খুব অল্প পরিমাণ অর্থ আসে, যা শিল্পীদের জীবিকা নির্বাহের জন্য যথেষ্ট নয়।

অবশ্য সাম্প্রতিক বছরগুলোয় সংগীতশিল্পীদের সঙ্গে স্পটিফাইয়ের এ বিরোধ কিছুটা কমেছে। কারণ প্লাটফর্মটির গ্রাহক পরিসর এখন অনেক বড়। স্পটিফাই বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ৬৭ কোটি ৫০ লাখ ব্যবহারকারীর প্লাটফর্মে পরিণত হয়েছে। এর মধ্যে ২৬ কোটি ৩০ লাখ গ্রাহক সাবস্ক্রিপশন ফি দিয়ে এ অ্যাপ থেকে গান শোনেন।

সময়ের সঙ্গে স্পটিফাইয়ের রয়্যালটি পরিশোধ বেড়েছে। ২০১৪ সালে রয়্যালটির পরিমাণ ছিল ১০০ কোটি ডলার, যা এক দশক পর ২০২৪ সালে ১ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছেছে। তবে শিল্পীদের ক্ষোভ এখনো পুরোপুরি কমেনি। গত জানুয়ারিতে আইসল্যান্ডের সংগীতশিল্পী বিজোর্ক বলেছিলেন, ‘স্পটিফাই সম্ভবত সংগীতশিল্পীদের জন্য সবচেয়ে খারাপ একটি ঘটনা।’

অন্যদিকে গবেষণা সংস্থা মিডিয়া রিসার্চের বিশ্লেষক মার্ক মুলিগান বলেন, ‘অধিকাংশ শিল্পীর জন্য এটি কোনো কাজের কথা নয়। কারণ অর্থনীতির কাঠামো যা-ই হোক, এত বেশি সংগীত শোনা হচ্ছে যে এর আয় খুব ছোট ছোট অংশে বিভক্ত হয়ে যাচ্ছে।’

সাবস্ক্রাইবারদের কাছ থেকে সরাসরি অর্থ সংগ্রহ করে স্পটিফাই। এ অর্থের বেশির ভাগই পায় গানের মালিকানা যে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তার কাছে। এর মধ্যে রয়েছে রেকর্ড লেবেল, সংগীত প্রকাশক ও অন্যান্য স্বত্ব ধারণকারী গোষ্ঠী। অর্থাৎ স্পটিফাইয়ের দেয়া অর্থ গানের স্বত্বাধিকারীর মাধ্যমে বিতরণ হয়, যা কিনা শিল্পী ও অন্যদের সঙ্গে চুক্তির শর্তের ওপর নির্ভর করে।

এটি অনেক শিল্পীর সমালোচনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের মতে, স্পটিফাই থেকে প্রাপ্ত অর্থের বেশির ভাগ অংশই রেকর্ড কোম্পানি ও প্রকাশকদের কাছে যায়, আর শিল্পীরা তুলনামূলকভাবে কম অর্থ পান।

আরও